ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পয়াড কী, কেন এবং কিভাবে ?
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পয়াড কী, কেন এবং কিভাবে?
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড হল একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযােগিতা যা তরুণ-তরুণীদের কে ইসলামের মূল্যবােধ সংস্কৃতি এবং সভ্যতার সাথে পরিচিত করাবে।
এ প্রতিযােগিতা অনুষ্ঠান আয়ােজনের উদ্দেশ্যগুলাে হল :
১. তরুণ তরুণীদের জন্য একটি জ্ঞান বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত তৈরি করা।
২. শিক্ষার্থীদের ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য উৎসাহিত করা।
৩. ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ ছাত্রদেরকে জাগ্রত করা এবং এ বিষয়ক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা।
৪. তরুণদের মাঝে আত্মপরিচয় এবং জাতীয় চেতনা জাগ্রত করা।
৫. সমমনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক গঠন
আয়ােজনের লক্ষ্য :
সারাদেশে ৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর কাছে পৌঁছানাে এবং ২ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এই প্রােগ্রামে অংশগ্রহণ করানাে।
কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ :
প্রথম রাউন্ড : অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন এর মাধ্যমে শুরু হবে এ রাউন্ডের কার্যক্রম। এরপর একটি নির্দিষ্ট সিলেবাস কে ভিত্তি করে পাঠচক্র, ওয়েবিনার এবং অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে এ পর্বের কার্যক্রম এগিয়ে যাবে। একটি অনলাইন ওপেন বুক এক্সাম এর মাধ্যমে এ পর্ব থেকে দ্বিতীয় পর্বের জন্য প্রতিযােগী বাচাই করা হবে।
দ্বিতীয় রাউন্ড : প্রথম পর্ব থেকে বাছাইকৃত দের কে নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অনলাইন এক্সাম অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে লিখিত এবং এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে।
তৃতীয় রাউন্ড : এ পর্বে প্রতিযােগীদের প্রশিক্ষিতকরণ এর পরে অফলাইনে লিখিত এবং এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এবং সর্বশেষ পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান এর মাধ্যমে সশরীরে বিজয়ীদের কে পুরস্কৃত করা হবে।
মােট বাজেট : ২৫ লক্ষ টাকা
কার্যক্রমের ফলাফল :
১. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড এর সিলেবাস এর মাধ্যমে মৌলিক বইগুলাের দুই লাখেরও বেশি পাঠক তৈরি।
২. সারাদেশে ১০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবকের শৃংখল তৈরি যারা এই ধরনের অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজ করতে পারবে।
৩. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার পথ করে দেওয়া।
৪. এই ভূখন্ডে ইসলামের উত্তরাধিকার এর ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করা।
কার্যক্রমের প্রভাব :
মাত্র দুই বছর অলিম্পিয়াড আয়ােজনের মধ্য দিয়ে দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলাের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। এই অলিম্পিয়ার্ডের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক একাডেমিক পড়াশুনায় ব্রতী হয়েছে আর পরােক্ষভাবে প্রায়ই ১ লক্ষের বেশি মানুষ এই আয়ােজনের দ্বারা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চায় অনুপ্রাণিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলাে এই যে, এই প্রতিযােগিতার শতকরা নব্বই ভাগ প্রতিযােগী প্রচলিত ধারার স্কুল ও কলেজ থেকে উঠে এসেছেন। যেখানে তাদের ইসলামের ইতিহাস সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার তেমন সুযােগ ছিলাে না। নিয়মিতভাবে এই অনুষ্ঠান আয়ােজনের মাধ্যমে মুসলিম তরুণরা শান্তি, ন্যায়বিচার, সাম্য এবং ভালােবাসার সমন্বয়ে নৈতিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় এবং জ্ঞানভিত্তিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ইসলামের আলােকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।